হাইড্রার অন্তর্গঠনঃ মেসোগ্লিয়া ও এন্ডােডার্ম

মেসোগ্লিয়াএন্ডােডার্ম (Endoderm) বা গ্যাস্ট্রোডার্ম (Gastroderm)বা অন্তঃত্বক

হাইড্রার দেহপ্রাচীর বাইরের দিকে এক্টোডার্ম এবং ভিতরের দিকে এন্ডােডার্ম এই দুটো ভ্রূণীয় কোষস্তর নিয়ে গঠিত। এক্টোর্ডাম এবং এক্টোডার্মের মধ্যস্থলে মেসোগ্লিয়া (Mesoglea) নামে অকোষীয় স্তর বিদ্যমান।

সূতরাং হাইড্রার দেহ প্রাচীর -(A) এক্টোডার্ম নামক কোষীয়স্তর (B) মেসোগ্লিয়া নামক অকোষীয় স্তর এবং (C) এন্ডােডার্ম নামক কোষীয় স্তর নিয়ে গঠিত।

নিম্নে হাইড্রার দেহপ্রাচীরের মেসোগ্লিয়াএন্ডােডার্ম (Endoderm) বা গ্যাস্ট্রোডার্ম (Gastroderm)বা অন্তঃত্বক কোষস্তরগুলাের বর্ণনা করা হলো।

মেসোগ্লিয়া

এক্টোডামের ভিতরের দিকে অর্থাৎ এক্টোডার্ম এবং এন্ডােডার্মের মধ্যস্থলে মেসােগ্লিয়া নামে একটি অকোষীয় স্তর বিদ্যমান। এই স্তর জেলীর মত আঠালাে, স্থিতিঘাপক, অপ্রশস্ত এবং বর্ণহীন। এই স্তরে বিভিন্ন ধরনের চলমান কোষ দেখা যায়।

কাজ

(১) মেসােগ্লিয়া এক্টোডার্ম এবং এন্ডােডার্মের ভিত্তি হিসাবে অবস্থান করে।

(২) এই দুই কোষ স্তরকে পৃথক রাখে।

(৩) পেশী কোষসমূহের পেশীলেজের সংযুক্তিতল হিসাবে কাজ করে।

(৪) মিসােগ্নিয়া হাইড্রার অবলম্বন স্তর হিসাবে অবস্থান করে।

(৫) এক্টোডার্ম এবং এন্ডােভার্মের স্নায়ুকোষ স্থানান্তরিত হয়ে মেসােগ্লিয়ার গায়ে সংলগ্ন অবস্থায় থাকে।

(৬) কখনও কখনও মেসােগ্লিয়ায় চলমান ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ দেখা যায়।

এন্ডােডার্ম (Endoderm) বা গ্যাস্ট্রোডার্ম (Gastroderm)বা অন্তঃত্বক

মেসোগ্লিয়া ভিতরে দিকে সিলেক্টেরণ গহ্বরকে ঘিরে হাইড্রার এন্ডােডার্ম অবস্থিত।

এই স্তরের কোষগুলাে লম্বা এন্টোডার্মের কোষ সমূহের প্রায় দ্বিগুণ। এ স্তরের কোষগুলােও বিভিন্ন কাজের জন্য রূপান্তরিত হয়ে শ্রমবন্টন ঘটায়। এন্ডোডার্মের কোষগুলো সার্বিক ভাবে পরিপাকের সাথে জড়িত। এজন্য এ কোষস্তরকে গ্যাস্ট্রোডার্ম বলে।

এই স্তরে পাঁচ ধরনের কোষ থাকে। যথাঃ

(১) অন্তঃপেশী আবরণী বা পুষ্টি পেশী আবরণী কোষ (Nutrititive musculo-epithelial cell)

এরাই এন্ডােডার্মের প্রধান কোষ। এসব কোষ দুভাবে রূপান্তরিত হয়ে পুষ্টি সাধনে অংশ নেয়। যথাঃ

(ক) ফ্লাজেলাযুক্ত পেশী আবরণী কোষ (Flagellated-musculo-epithetial cell)

এসকল কোষের মুত্তপ্রান্তে ১-৩ টি ফ্লাজেলা থাকে। এসব ফ্লাজেলার আন্দোলনের ফলে

(i) সিলেন্টেরনে প্রবেশকৃত খাদ্য মরে যায়,

(ii) ভেঙ্গে যায় এবং

(iii) গ্রন্থিকোষ থেকে নিঃসৃত হওয়া উৎসেচক ও মিউকাস সিলেন্টেরনের মধ্যে খাদ্যের সাথে মিশ্রিত হয়।

এসব উৎসেচকের সাহায্যে সিলেটেরনে আন্তঃকোষীয় বা বহিঃকোষীয় পরিপাক পদ্ধতিতে খাদ্যের আংশিক পরিপাক ঘটে।

কাজ : (i) ফ্লাজেলার সাহায্যে সিলেন্টেরনে পানি প্রবাহের সৃষ্টি করে। (ii) আন্তঃকোষীয় পরিপাকে অংশ নেয়।

(খ) ক্ষণপদযুক্ত পেশী আবরণী কোষ (Pseudopodial musculo epithelial cells)

এসব কোষের মুক্ত প্রান্তে অস্থায়ী ক্ষণপদ গঠিত হয়ে সিলেন্টেরণ থেকে আংশিক পরিপাককৃত খাদ্য কোষের ভিতর প্রবেশ করে এবং খাদ্যগহ্বর গঠন করে।

এ সকল খাদ্যগহ্বরে অন্তঃকোষীয় পরিপাক পদ্ধতিতে খাদ্য পরিপাক হয়

কাজ : (i) খাদ্যবস্থা গ্রহণ ও অন্তঃকোষীর পরিপাকে অংশ নেয়। (ii) পরিপাককৃত খাদ্যের পরিশােষণে অংশ নেয়।

(২) ইন্টারস্টিশিয়াল কোষ (Interstitial cells)

এন্ডােডার্মের কোষগুলাের মধ্যে মধ্যে গোলাকৃতি বা চারকোণা ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এরা অপরিণত ও সঞ্চিত কোষ এবং প্রয়োজনমত অন্যান্য কোষে রূপান্তরিত হয়।

কাজঃ প্রয়ােজনমত অন্যান্য কোষে (নিডােব্লাস্ট, জনন কোষ, মুকুল গঠন) রূপান্তরিত হয়।

(৩) গ্রন্থিকোষ (Gland cells)

এন্ডোডার্মে প্রচুর গ্রস্থিকোষ থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমে নিঃস্রাবী দানা থাকে। এরা দুধরনের যথাঃ

(ক) মিউকাস নিঃস্রাবী গ্রন্থিকোষ

এসব কোষ মুখছিদ্র ও হাইপােপােষ্টোম অঞ্চলে বেশী থাকে। এরা মিউকাস নিঃসৃত করে খাদ্য গলাধঃকরণে অংশ নেয়।

(খ) উৎসেচক নিঃস্রাবী গ্রন্থি কোষ

এরা পরিপাকে অংশগ্রহণকারী উৎসেচকসমূহ নিঃসৃত করে বহিঃকোষীয় পরিপাকে অংশ নেয়।

(৪) সংবেদী কোষ (Sensory cells)

এন্ডােডার্মে প্রচুর সংবেদী কোষ থাকে। এরা সরু ও লম্বাকৃতির। এদের মুক্ত প্রান্তে সংবেদী রােম থাকে। এসব রােম সিলেটেরণে প্রবেশকৃত খাদ্য ও অন্যান্য বস্তু কর্তৃক সৃষ্ট উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুজালকে পাঠায়।

(৫) স্নায়ুকোষ (Nerve cells)

এন্ডােডার্মে স্নায়ুকোষ স্থানান্তরিত হয়ে মেসােগ্লিয়ার ভিতরের গায়ে সংলগ্ন হয়। এসব কোষ বহুভুজাকৃতি এবং শাখা-প্রশাখা সৃষ্টির মাধ্যমে সায়ু-জালক গঠন করে। স্নায়ু-জালকের সাথে সংবেদী কোষের ভিতরের প্রান্ত যুক্ত থাকে।

কাজঃ এক্টোডার্ম ও এন্ডােডার্মের সংবেদী কোষসমূহ কর্তৃক গৃহীত উদ্দীপনা অনুযায়ী স্নায়ুকোষগুলাে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে। এন্ডােডার্ম সার্বিকভাবে সিলেন্টেরনকে ধারণ করে ও পুষ্টির সাথে জড়িত।

Leave a Comment