রুই মাছের শ্বসনতন্ত্র।

রুই মাছের শ্বসনতন্ত্র (Respiratory system of L. rohita)

যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের উপস্থিতিতে কোষ মধ্যস্থ খাদ্য জারিত হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয় এবং খাদ্যের স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে শ্বসন বলে।

দেহে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শ্বসনকাজে অংশগ্রহণ করে তাদের একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে। বর্তমানে এ তন্ত্রকে গ্যাস বিনিময় তন্ত্র (Gases exchange system) বলে।

রুই মাছ একটি অস্থিময় মাছ। জলজ প্রাণী হওয়ায় রুই মাছ পানিতে দ্রবীভূত O2 গ্রহণ করে। চার জোড়া ফুলকা (gill) এ মাছের শ্বসন অঙ্গ। প্রতিটি ফুলকা কানকো (operculum) দ্বারা আবৃত থাকে। এরা গলবিলের দুইপাশে দুটি ফুলকা প্রকোষ্ঠে অবস্থান করে। গলবিলের পার্শ্বপ্রাচীরে পাঁচ জোড়া ফুলকা ছিদ্র থাকে। দুটি ফুলকা ছিদ্রের মধ্যবর্তী গলবিলের প্রাচীর অস্থি দ্বারা গঠিত যাকে ফুলকা আর্চ (gill arch) বলে।

এদের মধ্যে চারটি ফুলকা আর্চ একটি করে ফুলকা বহন করে। পঞ্চম আর্চ কোন ফুলকা বহন করে না। হাইওয়েড আর্চের হ্রাসপ্রাপ্ত (vestigial) ফুলকা বা সিউডোব্রাঙ্কিয়া (pseudobranchia) কানকোর ভিতরের দিকে একটি চাকের মত লেগে থাকে। এতে মাত্র এক সারি ফুলকা ফিলামেন্ট (gill filament) থাকে।

ফুলকা আর্চের ভিতরের দিকে গলবিল প্রাচীর থেকে কয়েকটি ভাঁজের মত সৃষ্টি হয়। এদেরকে ফুলকা রেকার (gill raker) বলে। ফুলকা রেকারগুলো ফুলকাগুলোকে কঠিন বস্তুর ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে।

রুই মাছের ফুলকার গঠন (Structure of gill)

প্রতিটি ফুলকা দুই সারি ফুলকা ল্যামেলা বা ফিলামেন্ট (gill lamella or filament) বহন করে। এগুলো ভিতরের দিকে (proximally) ব্রাঙ্কিয়াল আর্চের সাথে যুক্ত থাকে। প্রত্যেক সারি ফুলকা ল্যামেলাকে হেমিব্রাঙ্ক বা ডেমিব্রাঙ্ক (Hemibranch or demibranch) বলে। দুই সারি হেমিব্রাঙ্কের মধ্যে হ্রাস প্রাপ্ত ইন্টারব্রাঙ্কিয়াল পর্দা থাকে। যার ফলে হেমিব্রাঙ্কের ডগাগুলো মুক্ত থাকে।

প্রতিটি ফুলকা ল্যামেলা অনেকগুলো ছোট ছোট আড়াআড়িভাবে সাজানো পাত বা প্লেট বহন করে। এ পাতগুলো পাতলা এপিথেলিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং দেহের ভিতরে রক্তনালিকার কৈশিকজালিকা বিস্তৃত থাকে। পাতগুলো একপাশ দিয়ে অন্তর্বাহী (afferent) ও অপর পাশ দিয়ে বহির্বাহী (efferent) রক্ত নালিকা (ধমনি) বিস্তৃত হয়।

রুই মাছের শ্বসন কৌশল (Mechanism of respiration)

প্রত্যেকটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। রুই মাছের শ্বসনক্রিয়া শ্বাসগ্রহণ (Inspiration) ও শ্বাসত্যাগ (Expiration) এ দুই ধাপে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে ফুলকা প্রকোষ্ঠ চোষণ পাম্প (Suction pump) হিসেবে কাজ করে। এর ফলে অন্তর্বাহী ধমনি (afferent artery) দিয়ে হৃদপিণ্ড থেকে CO2 সমৃদ্ধ রক্ত ফুলকায় প্রবেশ করে।

ফুলকায় অবস্থিত কৈশিক জালক থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় CO2 পানিতে নির্গত হয় এবং পানি থেকে দ্রবীভূত O2 ফুলকার কৈশিক জালকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। এ O2 সমৃদ্ধ রক্ত তখন বহির্বাহী (efferent artery) ধমনির মাধ্যমে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে।

রুই মাছের বায়ুথলি বা পটকা (Air bladder / swim bladder)

রুই মাছের বায়ুথলি বা সাঁতার থলি বা পটকা একটি পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট থলি বিশেষ। এটি পৌষ্টিক নালির পৃষ্ঠীয় প্রাচীর থেকে উৎপত্তি লাভ করে। এটি দেখতে চকচকে এবং এর ভিতরে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস যেমন- O2, N2, CO2 বিদ্যমান থাকে। রুই মাছের বায়ুলি দু’ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট যথা সম্মুখ ও পশ্চাৎ কক্ষ। সম্মুখ কক্ষটি ছোট এবং পশ্চাৎ কক্ষটি বড়। দুটি কক্ষের মাঝখানে একটি গভীর খাঁজ রয়েছে। বায়ুলির সম্মুখ কক্ষ একটি সরু নুম্যাটিক ডাক্ট (pneumatic duct) দ্বারা অন্ননালির সম্মুখে পৃষ্ঠীয় অঞ্চলে যুক্ত হয়।

রুই মাছের বায়ুথলির কাজ

১. বায়ুথলি প্লবতা রক্ষাকারী অঙ্গ (Hydrostatic organ) হিসেবে কাজ করে।

২. শব্দ সৃষ্টি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৩. পানিতে দ্রবীভূত O2-এর ঘাটতি দেখা দিলে বায়ুলিতে বিদ্যমান গ্যাস সে ঘাটতি পূরণ করে মাছের শ্বসন কাজে সহায়তা করে।

৪. এটি মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে পানির নিচে বিভিন্ন গভীরতায় মাছকে স্থির রাখতে সহায়তা করে।

৫. বায়ুলির এক অংশের গ্যাস অন্য অংশে স্থানান্তর করার মাধ্যমে মাছ পানিতে দেহের মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র রক্ষা করে।

আরো কিছু যোগ করতে হবে।

Leave a Comment