তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর

তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর

ইমিউনিটি জনিত সাড়া (immune response) তৃতীয় স্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্গত এবং এটি নির্দিষ্টভাবে (Inspecific) প্রতিরক্ষা প্রদান করতে পারে।

অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ জীবাণু বা পরজীবীর বিরুদ্ধে কিংবা বিশেষ কোনাে অ্যান্টিজেন প্রতিরােধের জন্য এই ব্যবস্থায় ভিন্ন রকমের প্রতিহত পন্থা দেখা যায়।

১। সহজাত ইমিউনিটি (inborn or innate or natural immunity)

যে ইমিউনিটি জন্মের সময় থেকে বংশ পরম্পরায় সঞ্চালিত হয় এবং দেহের সাধারণ ও স্থায়ী প্রতিরােধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম, তাকে সহজাত ইমিউনিটি বলে।

এ রকম ইমিউনিটি জন্মগত। এটি বিশেষ কোনাে রােগ জীবাণুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নয়। এটি দেহের সাধারণ ও স্থায়ী প্রতিরােধ ব্যবস্থা, যা জন্ম থেকেই রােগ বা জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকরী।

উদাহরণ- ত্বক, মিউকাস পর্দা, পাকস্থলীর আম্লিক pH, ক্ষরিত লালারস, চোখের পানি, শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া, রক্ত কণিকা (ম্যাক্রোফেজ ও নিউট্রোফিল) প্রভৃতি দ্বারা এই ইমিউনিটি রােগ বা জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরােধ ব্যবস্থা গড়ে তােলে।

২। জিনগত ইমিউনিটি (genetic immunity)

জিনগত গঠনের ভিত্তিতে এই প্রতিরােধ ব্যবস্থা সৃষ্টি হয় বলে এটিকে বংশগত বা জিনগত ইমিউনিটি বলা হয়। এই ইমিউনিটি বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আংশিকভাবে বা জীবাণুর সম্পূর্ণভাবে পােলিও, হাম, কলেরা, আমাশয়, ভাইরাসজনিত পক্ষাঘাত, মাম্পস, সিফিলিস প্রভৃতিকে রােধ করতে পারে।

সহজাত ইমিউনিটি

সহজাত ইমিউনিটি প্রতিরােধ গড়ার পদ্ধতিঃএ ধরনের ইমিউনিটি নিম্নলিখিতভাবে প্রতিরােধ গড়ে তােলে।

১। আগ্রাসন ভােজন (Phagocytosis)

রেটিকিউলাে এন্ডােথেলিয়াল তন্ত্রের আগ্রাসন কোষ, রক্তের মনােসাইট, নিউট্রোফিল, যকৃতের ফুফার কোষ, সংযােগী কলার হিস্টিওসাইট, প্লিহা, লসিকাগ্রন্থি, থাইমাস গ্রন্থির জালককোষ সক্রিয় আগ্রাসন পদ্ধতিতে রােগ জীবাণু ধ্বংস করে। এ ছাড়া প্রদাহ স্থানে আগ্রাসক কোষ প্রবেশ করে স্বাভাবিক অনাক্রম্যতায় অংশগ্রহণ করে।

২। এসিড ও উৎসেচক

পাকস্থলীতে গৃহিত জীবাণু পাকস্থলীর হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পাচক উৎসেচক দ্বারা বিনষ্ট হয়।

৩। ত্বক ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি

ত্বক তার কঠিন বহিঃস্তরের মাধ্যমে দেহে রােগ জীবাণু প্রবেশে বাধা প্রদান করে। নাসিকার মিউকাস স্তর রােগ জীবাণুকে মুখবিবরে লালার মধ্যে ঠেলে দেয়। তখন রােগ জীবাণু গলাধঃকৃত হয়ে পাকস্থলীতে আসে এবং এসিডের সংস্পর্শে বিনষ্ট হয়।

৪। রক্তস্থিত রাসায়নিক পদার্থ

রক্তের কিছু রাসায়নিক পদার্থ জীবাণু বিনাশে অংশগ্রহণ করে। যেমন-লাইসােজাইম: এটি এক রকম মিউকোলাইটিক পলিস্যাকারাইড জাতীয় পদার্থ, যা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।

৫।বেসিক পলিপেপটাইড

এই পদার্থটি কোনাে কোনাে গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে বিক্রিয়া করে ও তাদের নিষ্ক্রিয় ও বিনষ্ট করে।প্রােপারডিন: এটি একটি বৃহদাকার প্রােটিন যা গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াগুলাে বিনষ্ট করে।

৬।অ্যান্টিবডি

এরা রক্তের স্বাভাবিক অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিজেনের উপস্থিতিতে এরা উৎপন্ন হয় এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া,ভাইরাস ও প্রতিবিষকে ধ্বংস করে।

৭।প্রাকৃতিক কিলার সেল

এরা এক ধরনের লিম্ফোসাইট, এরা বিভিন্ন বিজাতীয় কোষ, টিউমার কোষ প্রভৃতিকে বিনষ্ট করে। 

সহজাত ইমিউনিটি-তন্ত্রের প্রধান কাজ

 মেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহে সহজাত ইমিউনতন্ত্রের প্রধান কাজগুলাে হলাে-

১। সংক্রমণ স্থানে অনাক্রম্য কোষগুলােকে নিযুক্ত করে সাইটোকাইনস (cytokines):এর মতাে রাসায়নিক উৎপাদন করা।

২। কমপ্লিমেন্ট তন্ত্রকে সক্রিয় করে ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করা এবং মৃত কোষ পরিস্কার করা।

৩। অঙ্গ, কলা বা লসিকাতে উপস্থিত বহিরাগত বস্তুগুলােকে বিশেষ শ্বেতরক্তকণিকা দিয়ে শনাক্ত করা ও বর্জন করা।

৪। অর্জিত ইমিউন তন্ত্রকে সক্রিয় করে তােলা। 

Leave a Comment