ঘাস ফড়িংয়ের জীবন চক্র

জীবন চক্র (LIFE CYCLE)

মিলন (COPULATION)

ঘাসফড়িং এর মিলনকাল গ্রীষ্মের শেষভাগ। মিলনকালে পুরুষ ঘাসফড়িং স্ত্রী ঘাসফড়িং এর পিঠআঁকড়িয়ে থাকে এবং তার লিঙ্গ (penis) যােনিতে (vagina) প্রবেশ করিয়ে দেয়।

ফলে সেমিনাল ফ্লুইডস্থিত শুক্রাণু স্ত্রী ঘাস ফড়িং এ নিষ্ক্রান্ত হয় এবং স্পার্মাথিকায় সঞ্চিত হতে থাকে। ডিম পাড়ার পূর্বে স্ত্রী ঘাস ফড়িং পুরুষের সাথে কয়েক দফা মিলিত হয়।

নিষেক(FERTILIZATION)

ঘাসফড়িং এ অন্তঃনিষেক সংঘটিত হয়। পরিপক্ক ডিম্বাণু ডিম্বনালি দিয়ে আসার সময় ভাইটেলাইন পর্দা (vitelline membrane) এবং কোরিয়ন (chorion) দ্বারা আবৃত হয়।

স্পার্মাথিকার পাশ দিয়ে যাবার সময় শুক্রাণু কোরিয়নের একটি ছিদ্র পথে মাইক্রোপাইল (micropile) এর মাধ্যমে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে।

অতঃপর শুক্রাণু নিউক্লিয়াস এবং ডিম্বাণু নিউক্লিয়াস মিলিত হয়ে নিষেক সম্পন্ন করে।

ওভিপজিসন (OVIPOSITION)

মিলনের পর স্ত্রী ঘাস ফড়িং এর ওভিপজিটরের সাহায্যে ক্ষুদ্র গর্ত খনন করে এবং কিছুদিন অন্তর অন্তর ডিম পাড়ে। ওভিপজিটরের সাহায্যে গর্তে একসঙ্গে প্রায় ২০টি ডিম গুচ্ছাকারে পাড়ে।এরা দশটি গুচ্ছে প্রায় ২০০টি ডিম পাড়ে।

ডিম পাড়ার পর পুরুষ ও স্ত্রী ঘাসফড়িং মারা যায়।

পরিস্ফুটন (Development)

ঘাসফড়িংয়ের ডিম্বাণু সেন্ট্রোলেসিথাল ধরনের অর্থাৎ এর কুসুম কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকে । নিষেকের পর নিষিক্ত ডিম্বাণুর (জাইগােট) পরিস্ফুটন চলতে থাকে।

প্রথমে প্রায় ৩ সপ্তাহ পরিস্ফুটন চলে, শীতকালে পরিস্ফুটন বন্ধ থাকে। এ অবস্থাকে ডায়াপােজ (Diapause) বলে।

বসন্তের আগমনে আবার পরিস্ফুটন শুরু হয় এবং ডিম ফুটে নবজাতক বের হয়ে আসে এদের নিম্ফ (Nymph) বলে।

রূপান্তর (Metamorphosis)

যে ধারাবাহিক ও দ্রুত পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ত অবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রাণী সৃষ্টি হয় তাকে রূপান্তর বলে ।

পতঙ্গে দু ধরনের রূপান্তর দেখা যায়। যথা- সম্পূর্ণ ও অসম্পূর্ণ রূপান্তর ।

সম্পূর্ণ রূপান্তর (Complete metamorphosis)

যে রূপান্তরে শিশু দশার সাথে পূর্ণাঙ্গ দশার প্রাণীর আকার আকৃতির কোনাে মিল থাকে না এবং শিশু দশা কয়েকটি ধাপে ব্যাপক পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ দশা প্রাপ্ত হয় সেই ধরনের রূপান্তরকে সম্পূর্ণ রূপান্তর বলে।

সম্পূর্ণ রূপান্তরে শিশু দশাকে লার্ভা (larva) বলে। যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি ইত্যাদি ।

অসম্পূর্ণ রূপান্তর (Incomplete metamorphosis)

যে রূপান্তরে শিশু দশার প্রাণীটির গঠন, বসতি, খাদ্য, খাদ্যাভ্যাস পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতােই তবে এরা আকৃতিতে ছােট, ডানা ও জনন অঙ্গ থাকে না এবং আংশিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কয়েকবার খােলস বদলানাে মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ দশা প্রাপ্ত হয় সেই ধরনের রূপান্তরকে অসম্পূর্ণ রূপান্তর বলে ।

অসম্পূর্ণ রূপান্তরের শিশু দশাকে নিম্ফ (Nimph) বলে। যেমন- ঘাসফড়িং, আরশােলা ইত্যাদি।

ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তর

ঘাসফড়িংয়ের রূপান্তর অসম্পূর্ণ বা হেমিমেটাবােলাস (hemimetabolous) ধরনের।

ডিম ফুটে যে শিশু ঘাসফড়িং বের হয়ে আসে তাকে নিম্ফ বলে। নিম্ফ-এর গঠন, খাদ্য, খাদ্যাভ্যাস, বসতি ইত্যাদি প্রায় পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর মতােই, তবে পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর সঙ্গে পার্থক্য হলাে- এরা আকৃতিতে ছােট, মস্তক তুলনামূলকভাবে বড়, জননঅঙ্গ ও ডানা থাকে না এবং প্রজনন তন্ত্র অসম্পূর্ণ ।

নিম্ফ সবুজ কচি ঘাস পাতা খায়। নিম্ফের পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তিতে ৫ বার খােলস বদলানাে বা মােন্টিং (Moulting) বা নির্মোচন বা একডাইসিস (Ecdysis) ঘটে। প্রতিটি খােলস বদলানাের মধ্যবর্তী অবস্থাকে ইনস্টার (Inster) বলে।

৫ম বার খােলস বদলনাের পর এদের ডানা গজায় ও প্রজনন তন্ত্র বিকশিত হয়। নিম্ফ থেকে পূর্ণাঙ্গ (Imago) ঘাসফড়িংয়ে পরিণত হতে প্রায় ২ মাস সময় লাগে।

রূপান্তরের হরমােনের ভূমিকা

ঘাসফড়িংয়ের সুষ্ঠু রূপান্তরের বিভিন্ন হরমােনের ক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

নিম্ফ দশায় খােলস বদলানাে নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের করপােরা অ্যালাটা (Corpora allata) নিঃসৃত জুভেনাইল হরমােন (Juvenile hormone. JH)।

অগ্রবক্ষ থেকে ক্ষরিত একডাইসােন বা মােল্টিং হরমােন (Ecdyson or Moulting Hormone-MH) শেষ বারে খোলস বদলাতে ও পরিণত লাভে সাহায্য করে ।

Leave a Comment