ঘাসফড়িং এর লালাগ্রন্থি(The Salivary gland)

ঘাসফড়িং এর লালাগ্রন্থি(The Salivary gland)

আরশােলার বক্ষগহ্বরে পৌষ্টিক নালীর ক্রপের দুপাশে একজোড়া স্বচ্ছ যৌগিক পাতার মতাে লালাগ্রন্থি থাকে। এরা ক্রপের উপরের অর্ধাংশের সাথে লেপ্টে লেগে থাকে।

কাজঃ লালাগ্রন্থি লালারস নিঃসৃত করে, জমা রাখে ও পৌষ্টিক নালীতে প্রেরণ করে। লালাগ্রন্থি ঘাসফড়িং এর প্রধান পুষ্টিগ্রন্থি।

গঠন

লালাগ্রন্থির প্রধান দুটি অংশ। যথাঃ

(১) লালাগ্রন্থি বা লালারস নিঃস্রাবী গ্রন্থি এবং (২) লালাধার বা লালারস সঞ্চিত রাখার থলি (বা আধার)।

(১) লালাগ্রন্থি (The salivary gland)

লালাগ্রন্থিকে আবার ডান ও বাম লালাগ্রন্থি এ দুটি অংশে ভাগ করা যায়।

এরা যথাক্রমে ক্রপের ডান ও বাম দিকে অবস্থিত। প্রতিপার্শ্বের লালাগ্রন্থি আবার দুটো করে খন্ডাংশে বিভক্ত। এই খন্ডাংশগুলাের প্রতিটি যৌগিক পত্রের মতাে অসংখ্য ক্ষুদ্রাকার গ্রন্থি বা এসিনির (Acinus-singular) সমন্বয়ে গঠিত।

প্রতিটি এসাইনাসে বহুসংখ্যক নালিকাযুক্ত কোষ থাকে। নালিকাগুলাে একত্র হয়ে একটি করে ইন্টারক্যালারী (Intercalary) গঠন করে। উভয় খন্ডাংশের ইন্টারক্যালারী নালীদ্বয় মিলিত হয়ে যথাক্রমে বাম ও ডান দিকের লালাগ্রন্থির নালী গঠন করে।

এর অল্প পরে ডান ও বাম লালাগ্রন্থির নালী দুটো মিলিত হয়ে সাধারণ লালাগ্রন্থির নালী গঠন করে। এ নালী এরপর ক্রপের দৈর্ঘ্য বরাবর উপজিহবার দিকে অগ্রসর হয়।

কাজ ঃ (১) লালাগ্রন্থি লালারস নিঃসৃত করে। (২) লালারসের উৎসেচক খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়।

(২) লালাধার (The salivary receptacle)

প্রতিপার্শ্বের লালাগ্রন্থির মধ্যস্থলে পাতলা প্রাচীর গঠিত থলিকাকার লালাধার থাকে। বাম ও ডান পার্শ্বের লালাধার থেকে যথাক্রমে বাম ও ডান লালাধারের নালী উৎপন্ন হয়।

এ নালী দুটো পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে একটি সাধারণ লালাধারের নালী গঠন করে। এ নালী হাইপােফ্যারিংস এর দিকে অগ্রসর হয়ে সাধারণ লালাগ্রন্থির নালীর সাথে মিলিত হয়।

এ মিলিত নালীটিকে সাধারণ লালানালী বা ইফারেন্ট লালানালী (Common বা Efferent salivary duct) বলে। এরপর এই নালী আরও সামনে অগ্রসর হয়ে হাইপােফ্যারিংসের গােড়ায় উন্মুক্ত হয়।

কাজ ও লালাধার সাময়িকভাবে লালারস সঞ্চিত রাখে।

Leave a Comment